বাঘার ৭টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা
প্রতিটি এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান, স্থানীয় সমস্যা এবং নাগরিক সমন্বয়কদের যোগাযোগের ঠিকানা।
এলাকাভিত্তিক পরিচিতি ও নাগরিক দায়িত্ব
বাঘা উপজেলার প্রতিটি এলাকার সমস্যা ভিন্ন। চরাঞ্চলের চিকিৎসা সংকট থেকে শুরু করে মনিগ্রামের আমচাষিদের হিমাগার নিশ্চিত করা—প্রতিটি এলাকায় আমাদের কর্মীরা সরাসরি উপস্থিত থেকে কাজ করছেন।
বাঘা পৌরসভা
বাঘার প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র ও ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক মোকাম
১৫২৩ সালে সুলতান নুসরত শাহের নির্মিত ঐতিহাসিক ১০ গম্বুজ শাহী মসজিদ, ২৫৬ বিঘার সুবিশাল বাঘা দিঘি, উপজেলা পরিষদ প্রশাসন কমপ্লেক্স এবং উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহত্তম আমের মোকাম এই পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। প্রতিদিন হাজারো মানুষের যাতায়াতে মুখরিত এই পৌরসভায় আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধার সুষম বণ্টন এখন সময়ের দাবি।
আড়ানী পৌরসভা
ঐতিহাসিক বড়াল নদী ও শতাব্দী প্রাচীন রেলওয়ে বাণিজ্য বন্দর
আব্দুলপুর-রাজশাহী রেল রুটের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আড়ানী রেলস্টেশন ও বড়াল নদীর তীরে অবস্থিত শতাব্দী প্রাচীন বাণিজ্য কেন্দ্র। ঐতিহ্যবাহী খাঁটি খেজুরের পাটালি গুড়, আখের গুড় ও চালের অন্যতম প্রধান পাইকারি হাট হিসেবে সমগ্র বাংলাদেশে আড়ানী সুপরিচিত।
চকরাজাপুর ইউনিয়ন
পদ্মার বুকে জেগে থাকা দ্বীপ চর ও নদীভাঙন কবলিত জনগোষ্ঠীর জীবনযুদ্ধ
বাঘার সম্পূর্ণ নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল চকরাজাপুর। সম্প্রতি পদ্মার তীব্র ভাঙনে পলাশি ফতেপুর, আতারপাড়া ও চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন ১২০০+ পানিবন্দী পরিবারের নিরাপদ আশ্রয়, উন্নত যোগাযোগ এবং স্থায়ী সিসি ব্লক বাঁধ নির্মাণ এখানকার প্রধান ও সর্বসম্মত দাবি।
মনিগ্রাম ইউনিয়ন
আমের রাজধানী বাঘার প্রধান উৎপাদন ও বাণিজ্যিক কৃষিবলয়
বাঘার বিখ্যাত ফজলি, আশ্বিনা, খিরসাপাত, ল্যাংড়া ও গোপালভোগ আমের অন্যতম প্রধান উৎপাদন কেন্দ্র মনিগ্রাম। হাজার হাজার কৃষক, বাগান মালিক ও মৌসুমী শ্রমিকের জীবন-জীবিকা এই কৃষি অর্থনীতির সাথে যুক্ত। কিন্তু মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট ও সংরক্ষণাগারের অভাবে প্রতি বছর মৌসুমে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন।
পাকুড়িয়া ইউনিয়ন
পদ্মা তীরবর্তী সীমান্ত জনপদ ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রতীক
পদ্মার তীর ঘেঁষে অবস্থিত আলাইপুর সীমান্ত ফাঁড়ি ও বিজিবি বর্ডার আউটপোস্ট এই ইউনিয়নে অবস্থিত। নদীভাঙনে প্রতি বছর ফসলি জমি বিলীন হওয়ার পাশাপাশি নদীপথে সামাজিক নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সাথে পাকুড়িয়া নিবিড়ভাবে জড়িত।
গড়গড়ি ইউনিয়ন
দক্ষিণ-পূর্ব পদ্মা অববাহিকা ও বহুফসলি শস্যভাণ্ডার
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী গড়গড়ি ইউনিয়ন পদ্মার উর্বর পলিমাটিতে সমৃদ্ধ। ধান, গম, রবিশস্য, পান ও শাকসবজির ব্যাপক চাষাবাদ হয় এখানে। যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র দ্রুত বদলে যাবে।
বাজুবাঘা ইউনিয়ন
ঐতিহ্যবাহী খাঁটি খেজুর গুড়ের সূতিকাগার ও সমৃদ্ধ কৃষিবলয়
বাঘার বিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী খাঁটি খেজুরের ঝোলা ও পাটালি গুড়ের প্রসিদ্ধ উৎপাদন কেন্দ্র বাজুবাঘা। শত শত গাছি ও মৌসুমি উদ্যোক্তা প্রতি শীতে খাঁটি গুড় প্রস্তুত করেন। এছাড়া ধান, পাট, রবিশস্য ও আমের সুষম উৎপাদন এ অঞ্চলকে কৃষিভিত্তিক স্বনির্ভর রূপ দিয়েছে।
বাউসা ইউনিয়ন
উত্তরাঞ্চলীয় বৃহৎ শস্যভাণ্ডার ও ঐতিহ্যবাহী পান বরজ অঞ্চল
বৃহৎ ভৌগোলিক আয়তনের বাউসা ইউনিয়ন নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া সীমান্ত সংলগ্ন। প্রচুর পান বরজ, রবিশস্য ও আম বাগান রয়েছে এই ইউনিয়নে। প্রত্যন্ত গ্রামগুলোর ভাঙাচোরা কাঁচা রাস্তাঘাট দ্রুত সংস্কার ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসাসেবা সচল রাখা এখানকার প্রধান দাবি।
আড়ানী ইউনিয়ন
বড়াল নদী অববাহিকার উর্বর কৃষিবলয় ও গ্রামীণ ঐতিহ্য
বড়াল নদী অববাহিকায় অবস্থিত উর্বর ফসলি এলাকা আড়ানী ইউনিয়ন। বড়াল নদী শুকিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় শাখা খালগুলোতে পানি থাকে না। খাল পুনখনন এবং কৃষকদের গভীর নলকূপে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ দাবি এখানকার শীর্ষ অগ্রাধিকার।
আপনার এলাকার কোনো বিশেষ দাবি বা সমস্যা রয়েছে?
পদ্মার বাঁধ রক্ষা, কৃষকের সমস্যা কিংবা নাগরিক ভোগান্তি নিয়ে সরাসরি মতামত জমা দিন।
